মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগর ভবনের কনফারেন্স রুমে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মাঠকর্মীদের মধ্যে হ্যান্ড স্প্রে মেশিন, হ্যান্ড মাইক ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জে গত তিন থেকে চার মাস ধরে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে কর্মীদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ পরিস্থিতি ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
নাসিক প্রশাসক বলেন, কোনো এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বিশেষ মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশের ২০০ গজ এলাকা গুরুত্ব দিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করা হবে, যাতে ওই এলাকায় ডেঙ্গুবাহী মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
মশক নিধন কর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেন তিনি। কোনো ওয়ার্ড বা মহল্লায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে বলে জানান প্রশাসক।
তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। মশক নিধন কর্মীদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক। মানুষের জীবন রক্ষায় তারা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। তাই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের ফাঁকিবাজি না করে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফা। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুব উল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হোসেন শকু, সাবেক কাউন্সিলর মো. শামসুজ্জোহা, সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের সচিব ও সুপারভাইজার এবং মশক নিধন কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।