পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়ক থেকে শ্রী শুভ চন্দ্র দাসের গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত শুভ চন্দ্র দাস নারায়ণগঞ্জ সদর থানার গলাচিপা এলাকার শ্রী হরি চন্দ দাসের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সদর মডেল থানার মামলা নম্বর-০৮, তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬; ধারা ৩০২/৩৪, পেনাল কোড।
ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম তদন্তে নামে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করে ডিবি। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামি সুমনকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, আটক আসামিদের জবানবন্দি এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ধিমনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ডিবি।
এরই ধারাবাহিকতায় ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএমের নেতৃত্বে একটি দল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে নরসিংদী সদর থানাধীন শিলমান্দী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সাকিব সরকার দিমুন ওরফে ধিমনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত ধিমন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন হাজীগঞ্জ (পাঠানতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে) এলাকার নাদির সরকারের ছেলে। তার মায়ের নাম মোছা. সখিনা সুলতানা।
গ্রেপ্তারের পর ধিমনের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পরে তাকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
শুভ চন্দ্র দাস হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।