স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানে বিএনপির প্রভাব ও ‘দখলদারিত্ব’ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকজনের অনুপ্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় এনসিপির জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার।
সংবাদ সম্মেলনে যুবাইর আহমেদ বলেন, “বিগত সরকারের পতনের পর জনগণ একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে ভোট কারচুপি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনআস্থা নষ্ট করেছিল, বর্তমানের কর্মকাণ্ডেও সেই একই প্রবণতার মিল পাওয়া যাচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ‘রোডম্যাপ’ প্রকাশ করেনি। এই সুযোগে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ প্রক্রিয়া চলছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাবেক আমলা, শিক্ষক, তরুণ সমাজ, নারী প্রতিনিধি এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত আলেম সমাজ এবং আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের বাইরে থাকা রাজনৈতিক কর্মীদেরও এনসিপির ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান বলেন, “আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আমাদের সাফল্য কর্মীদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আমরা ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছি, তবে জোট না হলেও এককভাবে সব পদে প্রার্থী দেওয়ার তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা খন্দকার, সদস্য সচিব জোবায়ের হোসেন তামজিদ এবং জ্যেষ্ঠ সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম রাকিব।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা এবং প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।