আসছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে অন্যসব ইউনিয়ন পরিষদের চাইতে একটু বেশি আলোচনায় রয়েছে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ। কারণ, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে এই ইউনিয়নটি সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছিলো। গডফাদার ওসমানদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা এ ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নিরিহ মানুষের প্রতি জুলুম নির্যাতন-নিপীড়ন করে গেছেন দিনের পর দিন। তারা প্রকাশ্যে মাদক-সন্ত্রাস ও খুন-খারাপিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করলেও ভয়ে এলাকাবাসী কখনো টু শব্দটি উচ্চারণ করতে পারেনি। এভাবে তারা সেবার নামে ইউনিয়নবাসীকে নানাভাবে শোষন করেছেন।
সেই আলোচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আক্তার হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই মানুষটি এবার সরাসরি জনপ্রতিনিধি হয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
মোঃ আক্তার হোসেন সমাজ সেবার পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতিতেও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দলের জন্য বহু ত্যাগ তিতিক্ষা করেছেন তিনি। সবশেষ জুলাই অভ্যুত্থানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাথে তিনি অনেকটা প্রাণের মায়া ছেড়ে দিয়েই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আর এ জন্য তিনি বহু হামলা-মামলাও শিকার হয়েছিলেন। সুতরাং আগামীর নির্বাচনে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে আক্তার হোসেনকেই দল সমর্থন করবে বলে বিশ্বাস করেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, বলতে গেলে গোগনগরবাসীর অন্তিম সময়ে আক্তার হোসেন গোগনগর ইউনিয়নবাসীর পাশে ছায়ার মত দাঁড়িয়েছিলো। তিনি গোগনগরবাসীর যেকোনো বিপদে আপদে ছুটে আসেন এবং দ্রুততার সহিত সমস্যার সমাধান করেন।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের পট পরিবর্তন হলে সারাদেশের ন্যায় এ এলাকায়ও যখন সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দেয়, তখন কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। তখন এ আক্তার হোসেনই সর্বপ্রথম এগিয়ে এসেছিলেন গোগনগরবাসীর পাশে। তিনি
গোগনগরবাসীর জীবনের নিরাপত্তার জন্য দিনরাত কাজ করেছেন। একমাত্র তার হস্তক্ষেপের কারণেই এ ইউনিয়নে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থেকেছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে, শান্তিতে ও স্বস্তিতে থেকেছেন। সেই সময়ে তার এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আগের থেকেই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে পছন্দ করে রেখেছিলেন গোগনগরবাসী-এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তারা আরও বলেন, আক্তার হোসেন একজন সহজ-সরল ও মানবিক মানুষ। সুখে-দুঃখে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তার নেতৃত্বে একটি আধুনিক, উন্নত ও বৈষম্যহীন গোগনগর ইউনিয়নের স্বপ্ন দেখছে ইউনিয়নবাসী।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, তিনি রাজনীতি বা জনপ্রতিনিধিত্বকে কখনো ব্যক্তিগত লাভের মাধ্যম হিসেবে দেখেন না। বরং মানুষের সেবা করার মানসিকতা থেকেই তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা তাকে যা দিয়েছেন তিনি তাতেই সন্তুষ্ট। এখন তিনি নিজের অভিজ্ঞতা, সামর্থ্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে গোগনগর ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান।
তিনি জানান, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার অনেক আগ থেকেই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন উৎসবে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার মতে, একটি আধুনিক ও সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজন সবার অংশগ্রহণ এবং ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব। তিনি গোগনগর ইউনিয়নকে একটি মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংমুক্ত নিরাপদ সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে তিনি ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেন।
আক্তার হোসেন বলেন, “মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। যুব সমাজকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে তিনি কাজ করবেন। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও ফ্যামেলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানান তিনি।
সবশেষে মোঃ আক্তার হোসেন ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের মানুষ। আপনাদের সমর্থন পেলে ইনশাআল্লাহ একটি সুন্দর, আধুনিক ও মানবিক গোগনগর ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”