নারায়ণগঞ্জ শহরের জনজীবন অতিষ্ঠ করে তোলা খানপুর কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ এবং ১নং রেল গেট এলাকায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ মার্কেট নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। বিগত সরকারের আমলে গৃহীত এসব প্রকল্পকে জনস্বার্থবিরোধী এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অপকৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা।
**খানপুর কন্টেইনার পোর্ট: জনদুর্ভোগের নতুন শঙ্কা**
খানপুর এলাকায় নির্মাণাধীন কন্টেইনার পোর্টটি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জের মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পানগাঁওয়ে ইতিমধ্যে একটি কন্টেইনার পোর্ট বিদ্যমান থাকলেও সেটি তার সক্ষমতার মাত্র ২০ শতাংশও ব্যবহৃত হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র কয়েক কিলোমিটার ব্যবধানে আরেকটি পোর্ট নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিক্ষুব্ধ নাগরিকদের মতে, তীব্র যানজটের শহর নারায়ণগঞ্জে এই পোর্টটি চালু হলে পন্যবাহী যানবাহনের চাপে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। ১৮৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটিকে কেবল ‘সুবিধাভোগীদের পকেট ভারী করার মাধ্যম’ হিসেবে দেখছেন তারা। নারায়ণগঞ্জকে বাঁচাতে এই আত্মঘাতী প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য বর্তমান প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
**১নং রেল গেটে আদালতের তোয়াক্কা না করেই মার্কেট নির্মাণ**
এদিকে শহরের ১নং রেল গেট এলাকায় রেলওয়ের মূল্যবান জমি দখল করে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারা ফের শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রেলওয়ের একটি অসাধু চক্র স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের যোগসাজশে এই ভূমি আত্মসাতের চেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান ও প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় এই মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হলে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। সে সময় পুলিশি সহিংসতা ও আন্দোলনের মুখে তৎকালীন রেলমন্ত্রী ও মহাপরিচালক সশরীরে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে আবারও নির্মাণ কাজ শুরু হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে পৃথক দুটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। আদালত মার্কেট নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করলেও বর্তমানে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই অসাধু চক্রটি ধীরগতিতে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
**প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানের অভাব, তবুও চলছে লুটপাট**
নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, জেলায় জমি সংকটের দোহাই দিয়ে দীর্ঘ দিনেও মেডিকেল কলেজ, মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়, অডিটোরিয়াম বা সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের মতো প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। অথচ জনস্বার্থ উপেক্ষা করে সরকারি জমি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে লুটপাট করা হচ্ছে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের ফুসফুস খ্যাত এই জায়গাগুলো রক্ষা করা এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।