সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে এসব বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে অ্যাডভোকেট সামছুন নূর জানান, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে আইনজীবী ফোরাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। কমিটি গঠনের তিন মাসের মধ্যেই সম্মেলন আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পদত্যাগপত্রে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের একাংশ, যাঁরা পেশায় আইনজীবী, সংগঠনের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উপদলীয় কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আইনজীবী ফোরামের পাশাপাশি বিএনপির ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)-সহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নানাভাবে নাজেহাল ও অপদস্থ করা হচ্ছে বলেও পদত্যাগপত্রে অভিযোগ করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট সামছুন নূর পদত্যাগপত্রে আরও উল্লেখ করেন, সংগঠনের একটি দায়িত্বশীল পদে থেকেও প্রত্যাশিত গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে না পারায় তিনি নিজেকে অসহায় বোধ করছেন। এ পরিস্থিতিতে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরামে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
তবে আইনজীবী ফোরামের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও বিএনপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন অ্যাডভোকেট সামছুন নূর। নিজেকে বিএনপি পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সংগঠনের পদ ছেড়ে দিলেও আমৃত্যু বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করে যাবেন।
তাঁর এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরামের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও সম্মেলন আয়োজন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।