জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড, মাসিক কল্যাণ সভা ও আগস্ট মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বোধবার সকাল ৮টায় মাসদাইর পুলিশ লাইন্স মাঠে মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। প্যারেডে জেলার সকল ইউনিটের বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। পরে সকাল ১০টায় পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা তাদের সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার তা গুরুত্বের সাথে শুনে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
এ সময় পেশাগত দক্ষতা, মাদক-অস্ত্র উদ্ধার, ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন ও পরোয়ানা তামিলে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বন্দর থানায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মী বুলবুল হত্যা মামলায় দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী শেখ সিফাত (১৪ মামলার আসামি) সহ ১১ জনকে মাত্র ৬ ঘণ্টায় দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) দীপংকর ঘোষ এবং বন্দর থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিন বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এছাড়া শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হন মো. রমজান হোসেন (৫৬টি পরোয়ানা নিষ্পত্তি), শ্রেষ্ঠ এএসআই আনোয়ার হোসেন (৩৮টি পরোয়ানা, ৩৯ পিস ইয়াবা ও ৬ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার), শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী এসআই মো. আবু সাদেক (৭৬ কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবা), শ্রেষ্ঠ অস্ত্র উদ্ধারকারী ও ক্লুলেস মামলা উদঘাটনে এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার, ক্লুলেস ডিটেকশনে এসআই মফিজুল ইসলাম পিপিএম এবং শ্রেষ্ঠ ডিবি অফিসার এসআই মিঠুন কুমার দত্ত পুরস্কৃত হন। ডিএসবির এসআই ইজাহার আলীসহ ৫ জন কনস্টেবলকেও বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
দুপুর ১২টায় আগস্ট মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী পাওয়ার পয়েন্টে অপরাধের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। সভায় সিআইডি নারায়ণগঞ্জের চিফ মো. জাকির হোসেন, পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বিপিএম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মাহমুদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, পুলিশের কল্যাণই জনগণের কল্যাণ। ফোর্সের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই আমরা জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে চাই। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি মামলার তদন্ত হবে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ভুক্তভোগী বান্ধব। নারায়ণগঞ্জকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়তে সবাইকে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে হবে।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সিআইডি, নারায়ণগঞ্জ চিফ মোঃ জাকির হোসেন, পিবিআই, নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ বিপিএম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মাহমুদ এবং জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।