সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক কমরেড নিখিল দাস, সদস্যসচিব কমরেড আবু নাঈম খান বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, অর্থ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, জেলা কমিটির সদস্য রোকন আহমেদ প্রমুখ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, ধর্মনিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন, অভিন্ন পদ্ধতির ও গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে অব্যাহতভাবে লড়াই করে আসছে। এই লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬ সংগঠনের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও গণমানুষের আকাঙ্ক্ষিত শিক্ষাব্যবস্থা আজও অধরা। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতাউত্তর সকল ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার সর্বজনীন অধিকারের দাবি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে। শিক্ষার আর্থিক দায়িত্ব রাষ্ট্র নাকি অভিভাবকের—এই প্রশ্নে ছাত্রসমাজ বরাবরই স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
অথচ জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। ক্রমাগত বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে শিক্ষাকে বাজারি পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। প্রতিবছর বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ কমছে। চলছে বেসরকারিকরণ ও সংকোচন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৫ শতাংশই বেসরকারি ব্যক্তি মালিকানাধীন—যা শিক্ষার সর্বজনীন অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বৈষম্য বিলোপের স্লোগান দিয়ে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পরও দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন করে ৭ সহস্রাধিক কোটিপতি তৈরি হয়েছে। বিপরীতে দরিদ্রসীমার নিচে পতিত হয়েছে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। বর্তমান সরকারের সময়েও কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ২০৯ জন। এ বাস্তবতা প্রমাণ করে, কেবল ব্যক্তি বা সরকারের পরিবর্তনের মাধ্যমে জনজীবনের মৌলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
তাঁরা আরও বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জাতীয় সম্পদ ও দেশীয় স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তিসহ একের পর এক জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির মাধ্যমে দেশকে দীর্ঘমেয়াদি দাসত্বের যাঁতাকলে পিষ্ট করার আয়োজন চলছে। এর বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শুধু ব্যক্তি বা সরকারের পরিবর্তন ঘটলেই জনজীবনের মৌলিক কোনো পরিবর্তন ঘটে না; এর জন্য প্রয়োজন আমূল পরিবর্তন। সেই আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
সভায় ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক, রোকন আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আহমেদ রবিন স্বপ্নকে সদস্যসচিব করে ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করেন।
সভায় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে প্রাক্তন ও বর্তমান নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।