নারায়ণগঞ্জ সদর প্রধান ডাকঘরে হঠাৎ করে ‘স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্ট’-এর সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ এই নাগরিক সেবাটি বন্ধ করে দেওয়ায় রণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) ছাড়াই স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্টের উদ্যোক্তাকে মাত্র পাঁচ কর্মদিবসের সময় দিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এভাবে হুট করে সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রতিদিন সেবা নিতে আসা শত শত মানুষ। বর্তমানে এই পয়েন্টটি তালাবদ্ধ থাকায় ডিজিটাল ডাকসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদর পোস্ট অফিসের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, সম্প্রতি যোগদান করা নতুন ‘শিক্ষানবিশ পোস্টমাস্টার’ তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে এই স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্টের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। অফিসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ওই কর্মকর্তার একক সিদ্ধান্তে এমন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ডাকঘরে সেবা নিতে আসা কয়েকজন গ্রাহকের সাথে কথা বললে তারা জানান, স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্টের মাধ্যমে তারা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বিভিন্ন সেবা পেতেন। এখন এটি বন্ধ থাকায় তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে জিম্মি না হয়ে জনস্বার্থে অতি দ্রুত স্মার্ট সার্ভিস পয়েন্টটি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় শিক্ষানবিশ পোস্টমাস্টারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের দাবি, সরকারি এই মহতী উদ্যোগকে সচল রাখতে সরকার যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।