অনলাইনে ট্রেডিং অ্যাপসের মাধ্যমে লভ্যাংশের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—প্রতারক চক্রের মূল হোতা মো. হাবিব মিয়া (৩০) এবং তার সহযোগী নাজমুল হোসেন (৪১)। গত ৬ জুলাই দিবাগত রাতে ঢাকার বাড্ডা থানাধীন আফতাবনগর এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত একাধিক স্মার্টফোন ও পকেট রাউটার জব্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. নুর কামাল আজাদ নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে গত মে মাসে ‘কামাল খান’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেন। তাকে আন্তর্জাতিক অনলাইন ট্রেডিং ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল লভ্যাংশের প্রলোভন দেখানো হয়। প্রলুব্ধ হয়ে ওই ব্যবসায়ী একটি লিংকে (https://geminigoo.replit.app) একাউন্ট খোলেন। শুরুতে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে তার ভার্চুয়াল একাউন্টে লভ্যাংশসহ ২৩ হাজার টাকা প্রদর্শন করা হয়। এই বিশ্বাসযোগ্যতা পুঁজি করে চক্রটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিকাশ ও ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে গত ১০ মে থেকে ২৪ মে’র মধ্যে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে টাকা উত্তোলনে ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিক-নির্দেশনায় এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদের তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন উপ-পুলিশ পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ৬ জুলাই রাতে প্রথমে ঢাকার আফতাবনগর থেকে নাজমুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে চক্রের মূল হোতা হাবিব মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে। লভ্যাংশের ভুয়া স্ক্রিনশট দেখিয়ে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। হাতিয়ে নেওয়া অর্থ তারা নিমিষেই ‘বাইনান্স’ (Binance) বা ‘পকেট অপশন’ অ্যাপের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে কম্বোডিয়া ও চীনসহ বিদেশের বিভিন্ন সহযোগীদের কাছে পাঠিয়ে দিত।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের গত ৭ জুলাই আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৮ জুলাই তাদের পুনরায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জানান, সাধারণ মানুষের উচিত না বুঝে বা অপরিচিত লিংকে ক্লিক করে অনলাইনে বিনিয়োগ না করা। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।