মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনকারী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও এনায়েত নগর ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাজী সুমন মাহমুদ।
আজ সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মহান নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে হাজী সুমন মাহমুদ বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিসংবাদিত ধ্রুবতারা। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ যখন জাতি এক চরম দিশেহারা অবস্থায় ছিল, তখন তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা নিস্তেজ ও আতঙ্কিত জাতিকে সাহসের মন্ত্র জুগিয়েছিল এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি কেবল স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর দেশে যখন বাক-স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিলীন হয়ে গিয়েছিল, তখন শহীদ জিয়াই বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে মানুষের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রবর্তিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শনই আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি। তিনি ১৯-দফা কর্মসূচির মাধ্যমে এদেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠিত করেছিলেন এবং তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হওয়ার পর ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে দেশ আজ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। এই নতুন বাংলাদেশে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও তাঁর ব্যক্তিগত সততা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাথেয়। সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে জিয়ার আদর্শের কোনো বিকল্প নেই।”
পরিশেষে হাজী সুমন মাহমুদ বলেন, “শহীদ জিয়াকে শারীরিকভাবে হত্যা করা হলেও জনগণের হৃদয় থেকে তাঁকে মুছে ফেলা অসম্ভব। নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দল ও এনায়েত নগর ইউনিয়ন বিএনপি শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করেই জনগণের অধিকার রক্ষায় এবং গণতন্ত্র রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে।”
বিবৃতিতে তিনি শহীদ জিয়ার বিদেহী আত্মার উচ্চ মাকাম এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেন।