নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘হিমা হোসিয়ারি অ্যান্ড গার্মেন্টস’ নামের একটি কারখানার মালিক হারুন খালাসীকে (৪২) অফিস কক্ষের ভেতরে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মীম নামে কারখানার এক সাবেক নারী কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফতুল্লার রিয়া গোপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার একটি বাড়ির নিচতলায় অবস্থিত কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হারুন খালাসী সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি রাব্বানী নগর এলাকার মৃত আব্দুল কাদের মিয়ার ছেলে।
নিহতের ছোট ভাই সেলিম খালাসী অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইকে তার দিয়ে গলা পেঁচিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে কারখানার সাবেক কর্মী মীম ও তার সহযোগীরা জড়িত। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তারা লাশটি প্রথমে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায় এবং পরে বাড়িতে নিয়ে আসে।”
কারখানার শ্রমিকরা জানান, ঈদ উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী প্রায় ২০ জন শ্রমিক সারাদিন কাজ শেষে কারখানায় অপেক্ষা করছিলেন। নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ পর হারুন খালাসী কারখানায় আসেন এবং শ্রমিকদের অপেক্ষা করতে বলে নিজের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে শ্রমিকরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। পরে পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হলে তারা পুলিশের সহায়তায় কক্ষের দরজা ভেঙে চেয়ারে হেলানো অবস্থায় হারুন খালাসীর নিথর দেহ উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, “এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মীম নামে কারখানার সাবেক এক নারী কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কিছু, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”