মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তনকারী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য ও প্রখ্যাত চিকিৎসক নেতা ডাঃ মজিবুর রহমান।
আজ সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মহান নেতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জিয়ার অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
বিবৃতিতে ডাঃ মজিবুর রহমান বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ যখন জাতি এক চরম দিশেহারা অবস্থায় ছিল, তখন তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা নিস্তেজ জাতিকে সাহসের মন্ত্র জুগিয়েছিল। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা—সবক্ষেত্রেই তিনি বীরত্ব ও সততার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, যিনি এদেশকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “একজন চিকিৎসক ও সমাজকর্মী হিসেবে আমি মনে করি, শহীদ জিয়ার ‘১৯ দফা কর্মসূচি’ ছিল এদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সনদ। তিনি কেবল একদলীয় শাসনের অন্ধকার থেকে জাতিকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে দেননি, বরং উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতির মাধ্যমে কৃষি, শিল্প ও স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত সততা এবং কর্মনিষ্ঠা আজও আমাদের মতো পেশাজীবীদের জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।”
ডাঃ মজিবুর রহমান বর্তমান প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়ার পর ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে দেশ আজ পুনরায় স্বাধীন হয়েছে। এই সময়ে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শনই আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি হতে পারে। জাতিকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে জিয়ার আদর্শের কোনো বিকল্প নেই।”
পরিশেষে তিনি বলেন, “শহীদ জিয়াকে হত্যা করা হলেও তাঁর আদর্শকে হত্যা করা সম্ভব হয়নি। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এদেশকে শহীদ জিয়ার স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করার তৌফিক দান করেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করেই জনগণের অধিকার রক্ষায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।”