ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে ৭ দিন হাফ পাস (অর্ধেক ভাড়া) নিশ্চিত করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে সরকারি নির্দেশনার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগে আজ এই দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২৩ এপ্রিল সরকার গণপরিবহনের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বেড়েছে মাত্র ১১ পয়সা, যা মূল ভাড়ার ৫.১৯ শতাংশ। এই হিসেবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া সর্বোচ্চ ২ টাকা বৃদ্ধির কথা থাকলেও ১ মে থেকে মালিক পক্ষ একলাফে ভাড়া ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করেছে।
বাস মালিকদের দাবি অনুযায়ী এই রুটের দূরত্ব ১৯.৫ কিলোমিটার হলে ভাড়া বাড়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা। আর ১৮ কিলোমিটার দূরত্ব বিবেচনায় নিলে ভাড়া বাড়ে মাত্র ১ টাকা ৯৮ পয়সা। উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, মালিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে ২ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে ৩ টাকা ২ পয়সা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও জনস্বার্থ বিরোধী।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রদের জন্য হাফ ভাড়া ৩০ টাকা নির্ধারিত হলেও ১ মে থেকে তা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে। হাফ ভাড়ার দাবি করলে বা অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে বাসের ভেতর শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, অতীতে ভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে যাত্রী প্রতিনিধি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার যে ঐতিহ্য ছিল, এবার তা অনুসরণ করা হয়নি। কোনো অংশীজনের সাথে কথা না বলে মালিকপক্ষের একক সিদ্ধান্তে ভাড়া বাড়ানোকে ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
**পেশকৃত প্রধান দাবিগুলো হলো:**
১. ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সরকারি হিসেবের অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায় অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে ৭ দিন হাফ ভাড়া (সর্বোচ্চ ২৫-৩০ টাকা) নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের পকেট কেটে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে পরিবহন মালিকরা। এই ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রতিটি বাসে টাঙানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।