নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। জামিন চেয়ে আইভীর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন ওই দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই দুই মামলার একটিতে চলতি বছরের ২ মার্চ এবং অন্যটিতে ১২ এপ্রিল আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন।
সাবেক মেয়র আইভীর আইনজীবী জানান, গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হওয়া তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। গত বছরের ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট ওই পাঁচ মামলায় তাঁকে জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ১২ নভেম্বর সেই জামিন স্থগিত করে দেন। সেই আবেদনগুলো বর্তমানে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
আইনজীবীর তথ্যমতে, গত নভেম্বর মাসে ওই পাঁচ মামলায় জামিন পাওয়ার দিনই আরও পাঁচটি মামলায় আইভীকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। যদিও সেই এজাহারগুলোতে তাঁর নাম ছিল না। পরবর্তীতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ওই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান আইভী। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ৫ মার্চ চেম্বার আদালত সেই জামিন আদেশও স্থগিত করে নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।
সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল আপিল বিভাগে ওই পাঁচ মামলার ওপর শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৩ মে এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই দুই মামলায় জামিন পেলেও আগের মামলাগুলোতে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকায় সাবেক মেয়র আইভী এখনই কারামুক্ত হতে পারছেন না। ৩ মে আপিল বিভাগের আদেশের ওপরই তাঁর কারামুক্তির বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে।