নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেছেন, “শিশুশ্রম একটি জাতীয় সমস্যা। একটি শিশু যখন কলমের বদলে হাতুড়ি ধরে, তখন মূলত একটি জাতির ভবিষ্যৎই অন্ধকার হয়ে যায়। শিশুশ্রম নিরসনে শুধু আইনের প্রয়োগ নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।”
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘শিশুশ্রম নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ।
জেলা প্রশাসক রায়হান কবির আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জ একটি প্রধান শিল্পাঞ্চল হওয়ায়
এখানে শিশুশ্রমের ঝুঁকি অনেক বেশি। প্রতিটি শিশুর স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন থেকে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর মনিটরিং করা হবে। আমরা শিল্প-কারখানা মালিক, শ্রমিক নেতা এবং অভিভাবকদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করব যাতে কোনো শিশুই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না
হয়।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সকল প্রকার শিশুশ্রম নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এজন্য জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০ এবং শ্রম আইন ২০০৬-এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে।” দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োগ বন্ধে মালিকপক্ষকে সচেতন হতে হবে। শিশুদের পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এনে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা
করতে সরকার কাজ করছে।”
সেমিনারে বক্তারা শিল্প-কারখানা, হোটেল ও ওয়ার্কশপে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে কঠোর আইন
প্রয়োগের দাবি জানান। তারা বলেন, শুধু অভিযান দিয়ে এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়, বরং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পুনর্বাসন ও বিকল্প শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে
হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন এএফএম
মশিউর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইব্রাহিম। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন এনজিও কর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।