ঐতিহাসিক ৯৬তম চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় শহরের জেলা কার্যালয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাসদ (বিএএসডি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব কমরেড আবু নাঈম খান বিপ্লব। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্র ফ্রন্ট জেলা কমিটির সদস্য রোকন আহাম্মেদ, সংগঠক আহাম্মেদ রবিন স্বপ্ন এবং সরকারি তোলারাম কলেজের সংগঠক সাবরু আরাফাত লিয়ন।
আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, “১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে একদল তরুণ বিপ্লবী চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করে বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিল। ভারতবর্ষের ইতিহাসে যা কেউ আগে করতে পারেনি, সূর্যসেনের ৬৫ জনের সেই বিপ্লবী দল তা করে দেখিয়েছিলেন। তারা পাঁচটি দলে বিভক্ত হয়ে অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ ভবন দখল এবং রেললাইন উপড়ে ফেলে চট্টগ্রামের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।”
নেতৃবৃন্দ সূর্যসেনের ওপর ব্রিটিশদের অমানবিক নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি ফাঁসি কার্যকরের আগে মাস্টারদা সূর্যসেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের ওপর যে বর্বর অত্যাচার চালানো হয়েছিল, তা ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়। হাতুড়ি দিয়ে তাদের দাঁত ও হাড় ভেঙে দেওয়ার পরও বিপ্লবীদের মাথা নত করাতে পারেনি ইংরেজরা। এমনকি তাদের মরদেহ পর্যন্ত সৎকার করতে না দিয়ে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
বক্তারা আরও বলেন, ১৮ এপ্রিলের সেই স্বাধীনতার স্থায়িত্ব হয়তো কয়েকদিন ছিল, কিন্তু এর প্রেরণা ছিল সুদূরপ্রসারী। সেই বীরত্বগাথা আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামেও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লড়াইয়ে যুব বিদ্রোহের এই চেতনা ও মাস্টারদা সূর্যসেনের আদর্শই তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাবে।
আলোচনা সভা শুরুর আগে বিপ্লবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।