ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ওঠা ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ তকমা এবং অর্থের বিনিময়ে পদে বহাল হওয়ার অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘প্রপাগাণ্ডা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
কারাবরণ ও রাজনৈতিক ত্যাগ
সংবাদ সম্মেলনে রশিদ চেয়ারম্যান বলেন, “আমি যদি শওকত চেয়ারম্যান বা শামীম ওসমানের দোসর হতাম, তবে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কেন আমাকে ৮টি রাজনৈতিক মামলার আসামি হতে হলো? ২০১৮ এবং ২০২১ সালে বিএনপি করার অপরাধে আমি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছি। বর্তমান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ভাইয়ের সাথে আমি একই মামলায় জেল খেটেছি। ফতুল্লা থানা বিএনপির অনেক নেতৃবৃন্দও তখন আমার কারাসঙ্গী ছিলেন।”
মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের জবাব
ইউএনও সাহেবকে জড়িয়ে অর্থের বিনিময়ে পদে ফেরার যে গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, তাকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে তিনি বলেন, “আমি যখন দেশের বাইরে ছিলাম, তখন আমার বিরুদ্ধে ৫টি বৈষম্যমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যে আমার নামে ২২টি মামলা আছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার নামে বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ৫টি এবং সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলের ষড়যন্ত্রমূলক ৬টিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে।”
বহিরাগতদের দিয়ে মানবন্ধন
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তার বিরুদ্ধে হওয়া মানববন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেখানে বক্তাবলীর একজন সাধারণ মানুষও ছিল না। সব বহিরাগত লোক নিয়ে এসে এই ষড়যন্ত্রমূলক মানববন্ধন করা হয়েছে।”
সন্ত্রাসী হামলা ও নির্যাতনের বর্ণনা
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিবাদী সরকারের রোষানলে পড়ে আমি এবং আমার পরিবার চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সন্ত্রাসী আজমির ওসমান বাহিনী আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে এবং আমার ইটের ভাটার জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। বক্তাবলীর কোনো বিএনপি নেতার ওপর আমার মতো এত জুলুম ও নির্যাতন করা হয়নি।”
বক্তবলীবাসীর মূল্যায়ন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বক্তাবলী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কাছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রশিদ একজন দানবীর ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। তবে মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ এবং ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে দায়িত্ব থেকে সরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইউনিয়নবাসী মনে করেন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বক্তাবলী গড়তে রশিদ চেয়ারম্যানের বিকল্প নেই।