সরকার ঘোষিত ভাড়ার অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায় বন্ধ, এলপি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। বুধবার (৬ মে) বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাংলাদেশ জাসদ জেলা সভাপতি সোলেমান দেওয়ান, সিপিবি জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য বিমল কান্তি দাস এবং বাসদ নেতা সেলিম মাহমুদ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, “নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে বাস মালিকরা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে ১ মে থেকে একতরফাভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। সরকারের নির্ধারিত বর্ধিত হার অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বেড়েছে, যা হিসেব করলে এই রুটে সর্বোচ্চ ২ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু মালিকরা জনগনের পকেট কেটে ৫০ টাকার ভাড়া ৫৫ টাকা আদায় করছে। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের বিষয় হলো, প্রশাসন সাধারণ যাত্রীদের কোনো প্রতিনিধির সাথে আলোচনা না করে শুধুমাত্র বাস মালিকদের সাথে বৈঠক করে এই ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা এই স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতির নিন্দা জানাই এবং অনতিবিলম্বে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”
নেতৃবৃন্দ এলপি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, “নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা, তখন মার্চ ও এপ্রিল মাসে এলপি গ্যাসের মূল্য ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের অফিসিয়াল মূল্য ১৯৪০ টাকা হলেও বাজারে তা আরও এক-দুইশ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় মানুষ নিরুপায় হয়ে এলপি গ্যাস ব্যবহার করছে। এমতাবস্থায় এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা এখন সময়ের দাবি।”
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, “বিদ্যুতের মূল্য ১৭% থেকে ২১% বাড়ানোর যে পাঁয়তারা চলছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। অতীতে জ্বালানি খাতে চুরি ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই দফায় দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান সরকারকেও যদি সেই একই পথ অনুসরণ করতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। লুটপাট বন্ধ না করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত দায় চাপানো চলবে না।”
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত বাস ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে আনা না হয় এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা না হয়, তবে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ পথচারীরা অংশ নিয়ে জনস্বার্থবিরোধী এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।