ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহনের বাস ভাড়া পুনরায় ৫ টাকা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও ‘জুলুম’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। পরিবহন মালিকদের এই চক্রকে ‘অদৃশ্য পরিবহন মাফিয়া’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ ফরহাদ হোসাইন এই তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ আজ উৎসব ও বন্ধন পরিবহনের সিন্ডিকেটে বন্দি হয়ে পড়েছে। ঠুনকো অজুহাতে বারবার ভাড়া বৃদ্ধি করা এই মালিকপক্ষের পুরনো অভ্যাস। একসময় এই রুটের ভাড়া ছিল ৩০ টাকা। ফ্লাইওভার হওয়ার দোহাই দিয়ে তারা ভাড়া বাড়ালো। এরপর তেলের দাম বাড়লে তারা আওয়ামী লীগের আমলে ভাড়া ৫৫ টাকা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তেলের দাম কমলেও তারা ভাড়া আর কমায়নি।”
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, “গত ২৪-এর জুলাই আন্দোলনের পর ছাত্র-জনতার প্রবল দাবির মুখে তারা ৫ টাকা ভাড়া কমিয়েছিল। কিন্তু এখন পুনরায় তা বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং সাধারণ মানুষের ওপর জুলুমের শামিল।”
ভাড়া বৃদ্ধির গাণিতিক অসামঞ্জস্য তুলে ধরে বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকার প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়েছে ১১ পয়সা (৫.১৯%)। বাস মালিকদের হিসেব অনুযায়ী ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুট ১৯.৫ কিলোমিটার হলে ভাড়া বাড়ে ২ টাকা ১৮ পয়সা। কিন্তু তারা ৫ টাকা বাড়িয়ে জনগণের পকেট থেকে ২ টাকা ৮২ পয়সা অতিরিক্ত লুট করছে। আবার আমাদের হিসেব অনুযায়ী এই রুট ১৮ কিলোমিটার ধরলে ভাড়া বাড়ে মাত্র ১ টাকা ৯৮ পয়সা। অর্থাৎ মালিকরা প্রতি যাত্রীর কাছ থেকে ৩ টাকা ২ পয়সা করে বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে।”
মালিকপক্ষের একতরফা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, “জনপ্রতিনিধি বা সাধারণ মানুষের সাথে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই বাস মালিকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ করছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় এই লুটপাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, অবিলম্বে এই বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে এবং বিআরটিএ নির্ধারিত যৌক্তিক ভাড়া নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
বিবৃতিতে তারা নারায়ণগঞ্জবাসীকে এই পরিবহন মাফিয়াদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।