ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ‘বন্ধন’ ও ‘উৎসব’ পরিবহনের বাস ভাড়া বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের হাফ পাসে অযৌক্তিক শর্তারোপের প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। সোমবার (৫ মে) সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ শহরের বিভিন্ন বাস কাউন্টার পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও বিআরটিএ (BRTA) পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
কাউন্টার পরিদর্শনকালে ছাত্র নেতারা জানতে পারেন, বাস কর্তৃপক্ষ গত ২৩ এপ্রিল থেকে ভাড়া ৫৫ টাকা এবং শিক্ষার্থী ভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে হাফ পাসের ক্ষেত্রে তারা দুটি বিতর্কিত শর্ত জুড়ে দিয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে— প্রতিদিন কেবল সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং সপ্তাহে মাত্র ৫ দিন (শুক্রবার ও শনিবার বাদে) হাফ পাস কার্যকর থাকবে।
প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাস মালিকদের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ একতরফা ও লুণ্ঠনমূলক। জ্বালানি তেলের দাম কমলে ভাড়া কমানো হয় না, অথচ সামান্য অজুহাতে রাতারাতি ভাড়া বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। যাত্রীসেবা এখন পরিবহন মালিকদের কাছে লুটপাটের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।”
বিগত দিনের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “২০২৫ সালের ২০ আগস্ট যখন একইভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল, তখন ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রশাসন ও মালিকপক্ষ ভাড়া ৫০ টাকা বহাল রাখতে এবং সপ্তাহে ৭ দিন শর্তহীন হাফ পাস নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তালবাহানা করা হচ্ছে, যা চরম ধৃষ্টতা।”
বিবৃতিতে ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়:
১. অনতিবিলম্বে বর্ধিত ৫ টাকা ভাড়া প্রত্যাহার করে পূর্বের ৫০ টাকা ভাড়া বহাল করতে হবে।
২. সপ্তাহে ৭ দিন, ২৪ ঘণ্টা কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই সকল শিক্ষার্থীর জন্য হাফ পাস কার্যকর করতে হবে।
সাক্ষাৎ শেষে ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ জানান, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও বিআরটিএ পরিচালক উভয়েই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করা হবে এবং জনস্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হয় এবং মালিকপক্ষ তাদের একঘেয়েমি বজায় রাখে, তবে নারায়ণগঞ্জের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
পরিদর্শন ও সাক্ষাৎকালে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিয়মিত যাত্রীরা এখন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।