বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করলেও মাঠপর্যায়ে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত। এই বৈষম্য বাজারের স্বাভাবিক প্রবণতা নয়, বরং নিয়ন্ত্রণহীন গণপরিবহন খাতের সুযোগসন্ধানী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিজনিত চাপ সরকার চাইলে ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করতে পারত, কিন্তু তা না করে বাস মালিকদের মুনাফার স্বার্থে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, যা অন্যায়, গণবিরোধী ও অগ্রহণযোগ্য। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিএসএ) নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ এবং ঢাকা জেলার আওতাধিন জেলার পুনঃনির্ধারিত ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করেছে, যা মূল ভাড়ার ৫.১৯ শতাংশ। আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে বাসের ভাড়া ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়া হয় ১৮ কিলোমিটারে ১ টাকা ৯৮ পয়সা। কিন্তু পরিবহন মালিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের দূরত্ব সাড়ে ১৯ কিলোমিটার বলে দাবি করেন। তাদের সে দাবি অনুযায়ি সাড়ে ১৯ কিলোমিটারে ভাড়া বৃদ্ধি পায় ২ টাকা ১৮ পয়সা। কিন্তু তারা ৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাস মালিকরা শিক্ষার্থীদের হাফ পাস কার্যকর করতে নানা সময় টালবাহানা করে, যা প্রমাণ করে গণপরিবহন খাত নিয়মনীতি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না। এটি সরকারের নীরব সমর্থন ও প্রশাসনিক উদাসীনতার ফল। তাদের মতে, পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণে কাঠামো, দূরত্ব ও নীতিমালা অনুসরণ করা উচিত। আমরা দেখতে পাচ্ছি তেল সংকটের দোহাই দিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করা হচ্ছে। এই ভাড়া বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট অবিলম্বে এই অতিরিক্ত বাসভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের হাফপাশ কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছে।