নারায়ণগঞ্জ জেলা মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের প্রস্তাবিত নাম ব্যবহার করে শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ‘গঞ্জে আলী (রেল) খাল’ দখলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহানগর সমন্বয়কারী মোঃ বিপ্লব খাঁন এই প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, এই প্রতিবাদ কেবল একটি অবৈধ দখল উচ্ছেদের দাবি নয়—এটি রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা এবং জনস্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন। গঞ্জে আলী খাল নারায়ণগঞ্জ শহরের পানি নিষ্কাশনের ‘লাইফ লাইন’। এই খাল দখল বা সংকুচিত হলে পুরো শহর স্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়বে এবং নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিবৃতিতে বিপ্লব খাঁন অভিযোগ করে বলেন, খাল দখল করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড নির্মাণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দখলদার রাজনীতিরই একটি অংশ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই দখল প্রক্রিয়ার পেছনে যাদের নাম উঠে আসছে, তারা সবাই বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জনগণের জলাশয় দখল করা একটি জনবিরোধী অপচেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, “খাল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে খাল দখল করা মানে জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা করা। যে দল গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের কথা বলে, সেই দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তবে তা দলের ঘোষিত রাজনীতির সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।”
বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্ন রেখে গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা বলেন, “বিএনপি কি এই দখলদারদের দায় নেবে? নাকি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই অবৈধ দখলকে নীরবে বৈধতা দেওয়া হবে?”
বিবৃতিতে গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে বলা হয়, গঞ্জে আলী খালে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। অতিদ্রুত খালটিকে তার স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরিয়ে এনে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাস্তায় এবং সংগঠিত প্রতিরোধের মাধ্যমে এই দখলদার রাজনীতির জবাব দেওয়া হবে।
বিবৃতির শেষে ‘খাল বাঁচাও, শহর বাঁচাও’ স্লোগান তুলে ধরে দখলদারিত্বের অপরাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।