নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা। শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যালয়ে চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তারা এই অঙ্গীকার করেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজাহারুল ইসলাম মান্নান এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। এছাড়া শারীরিক অসুস্থতার কারণে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও মুঠোফোনের মাধ্যমে সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজাহারুল ইসলাম মান্নান এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমরা নারায়ণগঞ্জের ৫ জন এমপি এখন এক ও অভিন্ন। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করবো নারায়ণগঞ্জকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মেট্রেপলিটন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং একে মেট্রোরেলের আওতায় নিয়ে আসতে। রাজধানী ঢাকার পরেই সবদিক থেকে নারায়ণগঞ্জের অবস্থান। ব্যবসায়ীরা হাল না ধরলে দেশ এগোবে না। তাই ব্যবসায়ীদের সব ধরণের সহযোগিতা আমরা করব, আপনারাও আমাদের পাশে থাকবেন। ৫ এমপি এক থাকলে আমরা নারায়ণগঞ্জের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবই।”
সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, “নারায়ণগঞ্জের সকল এমপি যদি একসঙ্গে কাজ করেন, তবে জেলার অধিকাংশ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। অনেক শিল্প কারখানার মালিক এখনও চেম্বারের সদস্য নন, অথচ এক ছাতার নিচে না এলে বড় বড় সমস্যার সমাধান পাওয়া কঠিন। আমরা সংসদ সদস্যদের সুপরামর্শ নিয়ে ব্যবসায়ীদের কল্যাণে এবং একটি সুন্দর ও উন্নত নারায়ণগঞ্জ গড়তে কাজ করে যেতে চাই।”
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও বিসিবি পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপির রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশাসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও চেম্বারের কর্মকর্তারা।
সভায় বক্তারা নারায়ণগঞ্জকে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।