নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মধ্যরাতে তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইন থেকে অবৈধ সংযোগ দেওয়ার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক শ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের চিতাশাল ১নং গলির দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
গুরুতর দগ্ধ আরিফুল ইসলাম রংপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার লতাবর গ্রামের আলী আজগরের ছেলে। বর্তমানে তিনি ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আরিফুলের শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। বিস্ফোরণে দগ্ধ অপর তিন শ্রমিক স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক দেলোয়ার হোসেন তার বাড়িতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার জন্য স্যানিটারি মিস্ত্রি আব্দুল জলিলের সাথে ১৭ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী দেলোয়ার অগ্রিম ২ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কাজ শেষে বাকি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। সংযোগ দেওয়ার জন্য দেলপাড়া এলাকার গ্যাস কন্ট্রাক্টর মাসুমের সহায়তায় শ্রমিক সংগ্রহ করা হয়।
স্যানিটারি মিস্ত্রি আব্দুল জলিল জানান, গভীর রাতে দেলোয়ারের বাড়ির সামনে রাস্তা কেটে তিতাসের মূল পাইপ বের করা হয়। পাইপ থেকে অবৈধ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানে কর্মরত ৪ শ্রমিক দগ্ধ হন। ঘটনার পরপরই অন্য তিন শ্রমিক সটকে পড়লেও আরিফুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অবৈধ এই গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।