বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের আসন্ন ১৪তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল উপলক্ষে দেশব্যাপী “সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন” কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বেলা ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে জেলা শাখার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খাঁন রিচার্ড।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মশিউর রহমান রিচার্ড বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পুনর্গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। এই সময়ে জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে রাষ্ট্রের মৌলিক খাতগুলোতে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এর মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য হিসেবে সামনে এসেছে।
হাসিনা পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় সব রাজনৈতিক দল সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে যে অঙ্গীকার করেছিল, তা “জুলাই সনদ” হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। নির্বাচিত সংসদে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করা হচ্ছে।
দুঃখজনকভাবে, বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে “জুলাই সনদ” বাস্তবায়ন থেকে সরে গিয়ে বিতর্কিত অধ্যাদেশ ও আদেশের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংসদের বাইরে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে বিভক্ত করার এই প্রবণতা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরুৎপাদনের ঝুঁকি তৈরি করছে, যা ২৪-পরবর্তী বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
এই প্রেক্ষাপটে আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই—জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক ও গুণগত সংস্কার অপরিহার্য। অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও শিক্ষা খাতে এখনো কার্যকর কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।
আমরা নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—অবিলম্বে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে বৈষম্যহীন, দক্ষতাভিত্তিক ও গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ প্রণয়ন করুন।
একইসাথে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণহত্যাসহ অতীতের সকল গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। লুটপাট করে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। দেশবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে এবং জাতীয় সক্ষমতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে হবে।
ছাত্র ফেডারেশন বৃহত্তর ছাত্রসমাজের স্বার্থের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। জাতীয় পুনর্গঠনের পাশাপাশি সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সারাদেশে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম ঘোষণা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সহযোদ্ধারাও আজ সেই কার্যক্রম শুরু করেছেন।
আমরা আশা করি, ছাত্রসমাজ অতীতের ন্যায় দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল কণ্ঠ হিসেবে সংগঠিত হয়ে সমাজ বিনির্মাণের পথে আমাদের সাথী হবেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা সৌরভ সেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সহ-সভাপতি সৃজয় সাহা, ইউশা ইসলাম ও তাইরান আবাবিল রোজা। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মৌমিতা নূর, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মৃধা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্ত শেখ, অর্থ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস নিসা এবং দপ্তর সম্পাদক শেখ সাদী।
কর্মসূচিতে জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার যুগ্ম আহবায়ক অপূর্ব রায়, যুগ্ম সদস্য সচিব তাহমিদ আনোয়ার, সদস্য মুয়াজ সাফাত ও সুরভী; সরকারি তোলারাম কলেজ শাখার সদস্য সিয়াম সরকার; সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সদস্য সচিব তায়েব হাসান তাজবীর এবং জেলা সংগঠক মো. সোহাগ ও আরিফসহ বিভিন্ন অঞ্চল ও শাখা কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির সমাপনীতে জেলার সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, আসন্ন কেন্দ্রীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে এই সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি সারা দেশে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।