নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন চর রাজাপুর এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি অবৈধ মিনি ট্যানারি। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পশুর চামড়া মজুদ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে নির্গত বর্জ্যে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘কসাই রহমান’ নামক এক ব্যক্তি কোনো প্রকার লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই এই কারখানা পরিচালনা করছেন।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিপর্যয়:
সরেজমিনে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরসিংপুর শামসুল আলমের মোড় থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে রাজাপুরের মাথায় এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে। চামড়া প্রসেসিংয়ের বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি সরাসরি পাশের একটি বিশাল পুকুরে গিয়ে পড়ছে। ফলে পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আশপাশের মানুষের বসবাস করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন:
নিয়মানুযায়ী, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ বা ট্যানারি স্থাপনের জন্য সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফ্যাক্টরি লাইসেন্স এবং ফায়ার সার্ভিস সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া শ্রমিক নিরাপত্তা, ইটিপি (বর্জ্য শোধনাগার), টিআইএন ও ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন এবং নির্দিষ্ট বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অভিযোগ উঠেছে, এগুলোর একটিও না নিয়ে রহস্যজনকভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কারখানাটি চালিয়ে যাচ্ছেন কসাই রহমান। এই কারখানা থেকে পশুর নাড়িভুঁড়ি বিদেশে রপ্তানির কাজও করা হয় বলে জানা গেছে।
সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈতিক অবক্ষয়:
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই কারখানাকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন রাতে বহিরাগত কসাই ও চামড়া ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়ে। সেখানে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আসর বসে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে একাধিক পরকীয়া ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাকে জরিমানাও করা হয়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা:
অবৈধ এই ট্যানারির কারণে সৃষ্ট দুর্গন্ধ ও দূষণ থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় এলাকাবাসী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত এই অবৈধ কারখানাটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।