জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির অকুতোভয় যোদ্ধা, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট খন্দকার মো. আকতার হোসেন।
এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিবৃতিতে এডভোকেট আকতার হোসেন বলেন, “শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন দেশপ্রেমিক ও বিপ্লবী চেতনার এক অনন্য উদাহরণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার সাহসী ভূমিকা ও আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তার মতো একজন উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় তরুণ নেতার চলে যাওয়া দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তিনি বলেন, “দেশপ্রেমিক এই বিপ্লবী নেতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। এই ঘটনার পেছনে যে ষড়যন্ত্রই থাকুক না কেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে আমি ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।”
বক্তব্যের শেষাংশে জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “বিপ্লবের অর্জনকে নস্যাৎ করতে একটি কুচক্রী মহল এখনো পর্দার আড়াল থেকে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রশাসনের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা এবং দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে তিনি রহস্যজনকভাবে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাদিকে গুলিবর্ষণকারী হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে শনাক্ত করা হয়েছে, যে বর্তমানে ভারতে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই অকাল মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।