ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং তার পুত্র মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে এক বিশাল বর্ণাঢ্য র্যালি নারায়ণগঞ্জের রাজপথে রীতিমতো কাঁপন ধরিয়েছে। হাজার হাজার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে নগরীর কালীরবাজার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
শুক্রবার বিকালে কালীরবাজারস্থ আবুল কালামের বাসভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানেই এসে শেষ হয়। র্যালিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড এবং শত শত দলীয় ও জাতীয় পতাকা শোভা পায়।
র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তার বক্তব্যে তিনি ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “৭ই নভেম্বর যেটা হয়েছিল সেইদিনের প্রেক্ষাপটটা থেকে আমরা মুক্তি চাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার জন্য সেইদিন ঢাকাসহ সারাদেশে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তিনি কে ছিলেন? তিনি ছিলেন, স্বাধীনতার মহানায়ক। বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি হলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষক।”
র্যালির আয়োজক ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবুল কাউসার আশা তার বক্তব্যে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরতে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সবাই ধৈর্য ধরুন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ইনশাআল্লাহ, সম্মান দেওয়ার মালিক আল্লাহ। জনস্রোত যেখানে আমরা সবাই থাকবো সেখানে। আজকের মতো অনাগত দিনেও আমরা আমাদের নেতা, নারায়ণগঞ্জের মাটি ও মানুষের নেতা, বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সংগ্রামী সদস্য, কারানির্যাতিত নেতা অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সাহেবের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং থাকবো।”
তার বক্তব্য চলাকালে “ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা – দালালী না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ” স্লোগান দিতে শুরু করলে হাজার হাজার নেতাকর্মীও তার সাথে স্লোগান ধরেন। তাদের স্লোগানে স্লোগানে গোটা নগরী মুখরিত হয়ে ওঠে, যা এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
র্যালিতে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী ও সমর্থকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই বিশাল র্যালিটি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিএনপির শক্তি ও সংহতির এক নতুন বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।