বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি এবং চিহ্নিত ভূমিদস্যু খোরশেদ সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে নতুন করে ভূমি দখল, বাড়িতে হামলা এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নরসিংপুরে ভূমিদস্যু খোরশেদ ও তার সঙ্গীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ভুক্তভোগী মাইনুদ্দিনের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। লোহার রড ও ধারালো ছুরি দিয়ে মাইনুদ্দিন এবং তার স্ত্রী শিউলির উপর হামলা চালানো হয়, এতে তারা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। এ বিষয়ে গৃহবধূ শিউলি ফতুল্লা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি খোরশেদ প্রায় তিন মাস জেল খেটে বের হওয়ার পর কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও, আবারও ভূমিদস্যুতা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছে। হামলার সময় তার সাথে সন্ত্রাসী সাগর, সন্ত্রাসী মুক্তার হোসেন সহ আরও অনেকে ছিল বলে জানা গেছে।
ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন। সন্ত্রাসী খোরশেদ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে মানুষের উপর হামলা-মামলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ বাদীর অভিযোগের তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে এবং খোরশেদ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
তবে, আহত মাইনুদ্দিনের স্ত্রী শিউলি বেগম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত খোরশেদ বর্তমানে ওমরা হজ্ব পালন করার নামে দেশ ত্যাগ করে সৌদি আরব চলে গেছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে এবং আল্লাহর কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করে বলেন, “যে মানুষের বাড়ি ঘরে হামলা করে, মানুষের জমি দখল করে, সে এখন ওমরা হজ্ব পালন করতে যায়। তার এই হজ্ব কতটুকু আল্লাহ পাক কবুল করবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।”
এলাকাবাসীর দাবি, খোরশেদ জমিজমা সংক্রান্ত মামলা, হত্যা মামলা, বৈষম্য বিরোধী মামলা সহ নানা মামলার দুর্ধর্ষ এবং মামলাবাজ আসামি। দেশ ছাড়ার আগে সে আহত অসহায় স্বামী-স্ত্রী এবং তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ষড়যন্ত্রমূলক আরেকটি মিথ্যা মামলা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, অসৎ এবং মামলাবাজ খোরশেদের উদ্দেশ্য ভুক্তভোগী মাইনুদ্দিনের পরিবারকে হয়রানি করা। তারা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছেন।