নারায়ণগঞ্জ কোর্ট প্রাঙ্গণ এলাকায় ফতুল্লার ভূইঘর এলাকার শান্তিধারা হকার্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সরকার (৫৭)-এর ওপর আমিনুল ইসলাম রিপন ঢালী (৪৮) ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম সরকার ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৬৯৬, তারিখ- ২০-১১-২৫ইং) দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম সরকার জানান, তিনি শান্তিধারা হকার্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একটি পক্ষ তাকে জড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ ২য় আদালতে একটি দেওয়ানী মোকদ্দমা (নং- ৩০৪/২৫) দায়ের করে।
ঘটনার দিন, গত রবিবার (১৯ অক্টোবর) উক্ত মামলার ধার্য তারিখ থাকায় রফিকুল ইসলাম সরকার আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং মামলার জবাব দাখিলের জন্য সকাল আনুমানিক ৮:৩০ ঘটিকায় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। তিনি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার অফিসের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় প্রয়োজনীয় কাগজ ফটোকপি করার উদ্দেশ্যে যাতায়াতের সময় মানিক মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমিনুল ইসলাম রিপন ঢালী (৪৮), সারওয়ার খান (৪৭), মনিরুল হক ইদ্রিস (৪৬), মনিরুল হক সরকার (৪৮) এবং তাদের সাথে থাকা আবুল কালাম পাটোয়ারী (৫০), আবুল কাশেম (৪৭), জিয়া হোসেন মোরাল (৩৮), মাসুদ হোসেন (৩৫), মোহাম্মদ আলী সোহাগ (৩৬) সহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক তার পথরোধ করে।
রফিকুল ইসলাম সরকার অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে ও তার সঙ্গে থাকা সমিতির সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং মামলায় হাজিরা দিতে আসায় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা ও গুরুতর জখম করে। এক পর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক অপহরণের উদ্দেশ্যে তাদের আনা একটি হাইস গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়।
তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তার ওপর আক্রমণ বন্ধ করে। চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা তাকে হুমকি দেয় যে, যদি তিনি তাদের শর্ত মেনে না নেন এবং মামলায় হাজির হয়ে জবাব দাখিল করেন, তাহলে তাকে সহ তার পরিবারের সদস্যদের যেখানে পাবে, সেখানেই চিরতরে হত্যা করবে।
রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, এই ঘটনার পর থেকে তিনি এবং বর্ণিত সমিতির অন্যান্য সদস্যগণ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা আশঙ্কা করছেন যে, হামলাকারীরা যেকোনো সময় তাদের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করতে পারে।
তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।