নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদার দাবিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা, মারধর ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (৮ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল ২নং ঢাকেশ্বরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের মারধরে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় শনিবার (৯ মে) সকালে ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিনের ভাতিজি লিমা আক্তার বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—একই এলাকার মৃদুল (২৩), মাহির (২০), লিটন (৫২), বকুল (৪০), রওশন (৪৫), আকলিমা (৪৮) ও আরাফাত (৩৬)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে গোদনাইল এলাকায় হেলাল উদ্দিনের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্তরা ওই বাড়িতে গিয়ে হেলাল উদ্দিনের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করতে থাকে।
এ সময় হেলাল উদ্দিনকে বাঁচাতে লিমা আক্তারসহ আত্মীয়স্বজনরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে আকলিমার (৩৬) মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এছাড়া শিশু সাদমান (১১), টুটুল (২৮) ও বাদী লিমা আক্তার গুরুতর আহত হন। হামলা চলাকালে দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে ১ ভরি ৪ আনা ওজনের একটি এবং ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “বিয়ে বাড়িতে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, হামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।