নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপুর মাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে ১৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আল-আমিন প্রধানকে শোকজ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির পক্ষ থেকে এই শোকজ নোটিশ প্রদান করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে দল থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন প্রধান সম্প্রতি মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতা টিপুর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ গালমন্দ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালান। বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয় এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সদর থানা বিএনপি তাকে ৪৮ ঘণ্টার সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রদান করে। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও আল-আমিন প্রধান কোনো লিখিত জবাব বা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আল-আমিন প্রধান নগরীতে বেশ কিছু বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। তারা জানান, আল-আমিনের প্রয়াত পিতা নাজির প্রধানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং নেতাকর্মীদের সমর্থনে তাকে ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই পদের মর্যাদা রক্ষা না করে বরং সিনিয়র নেতাদের নিয়ে অশোভন আচরণ ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা অবিলম্বে তাকে দলীয় পদ ও পদবি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শোকজের জবাব না দেওয়া এবং ধারাবাহিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধে খুব দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সূত্রটি আরও জানায়, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং সামাজিক ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আল-আমিন প্রধানকে দল থেকে বহিষ্কার করার বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
দলের একজন সিনিয়র নেতা জানান, “বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল দল। এখানে কোনো নেতার ব্যক্তিগত আক্রমণ বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই। আল-আমিন প্রধানের আচরণ দলের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”