বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ (গ্রেফতার) দেখানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ২০ জুলাই নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। ওই দিন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করা হলে ভেতরে আটকা পড়েন ব্যাংকের ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডলসহ তিন শ্রমিক মর্মান্তিকভাবে নিহত হন।
পরবর্তীতে এই ঘটনায় কৃষক ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নম্বর ৪১) দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাছুম বিল্লাহ তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাবেক মেয়র আইভীর সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ এনে আদালতে তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, বর্তমানে সেলিনা হায়াৎ আইভী কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আদালতের নির্দেশে তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এই হত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
নতুন করে হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট হওয়ায় সহসাই কারামুক্তি মিলছে না সাবেক এই মেয়রের। অথচ গত বৃহস্পতিবারই ফতুল্লা ও সদর থানায় দায়ের করা পৃথক পাঁচটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ফতুল্লা থানার বাসচালক আবুল হোসেন মিজি, আব্দুর রহমান, মো. ইয়াছিন ও পারভেজ হত্যা মামলা এবং সদর মডেল থানার হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার একটি মামলা ছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোররাতে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তাকে একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে হাইকোর্ট তাকে পাঁচটি মামলায় জামিন দিলেও আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সদর থানায় দায়ের করা আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট হওয়ায় তার আইনি জটিলতা আরও দীর্ঘায়িত হলো।