বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন এবং গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, “আজ আমরা কেবল আমাদের প্রিয় নেত্রীকেই হারাইনি, বরং বাংলাদেশ হারালো তার গণতন্ত্রের বাতিঘরকে। বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি নাম নয়, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষার এক মূর্ত প্রতীক।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর, যখন জাতীয়তাবাদী রাজনীতি অস্তিত্ব সংকটে, ঠিক তখনই গৃহবধূ থেকে রাজপথে এসে তিনি দলের হাল ধরেছিলেন। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বের কারণেই দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে পতন ঘটেছিল স্বৈরাচারের, পুনরুদ্ধার হয়েছিল গণতন্ত্র। তিনি এদেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তিন তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আরও বলেন, ১/১১-এর সেনাসমর্থিত সরকার কিংবা পরবর্তী সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন—কোনো কিছুই তাঁকে নীতি ও আদর্শ থেকে একচুলও নড়াতে পারেনি। মিথ্যা মামলা, দীর্ঘ কারাবাস এবং চরম অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে ছিলেন অনড়। তিনি চাইলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়ে আপস করতে পারতেন, কিন্তু তিনি বলতেন—’এদেশই আমার দেশ, এদেশের মাটিই আমার শেষ ঠিকানা।’ আজ তাঁর সেই কথাই সত্য হলো, তিনি মাটির কোলেই ফিরে গেলেন, কিন্তু রেখে গেলেন ত্যাগের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস।
তাঁর মৃত্যুতে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার প্রার্থনা করছি। একইসাথে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শোকসন্তপ্ত পরিবার ও কোটি কোটি নেতাকর্মীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। দেশনেত্রীর দেখানো পথেই আমরা আগামীতে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাব—এই হোক আজকের শোকের দিনে আমাদের শপথ।”