নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার দীর্ঘ ১৩ বছর বা ১৬২ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট’ আয়োজিত আলোক প্রজ্বলন কর্মসূচিতে বক্তারা এই দাবি জানান।
ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬২ মাস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্বকীর পিতা ও সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি। সংগঠনের সভাপতি মনি সুপারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে রফিউর রাব্বি বলেন, “শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আমরা বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আশা করেছিলাম, কিন্তু বাস্তব চিত্র এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। সাড়ে ১৩ বছর পার হলেও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) এখনো জমা দেওয়া হয়নি। আমরা জানতে চাই, এই বিলম্বের কারণ কী? এখনো কি ঘাতকদের রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে? শেখ হাসিনা সরকারের কালো ছায়া কি এখনো এই সরকারের ওপর রয়ে গেছে?”
তিনি আরও বলেন, “হাসিনা সরকার ১৫ বছর ধরে দেশে যে অপরাধী রক্ষার সংস্কৃতি তৈরি করেছিল, বর্তমানেও যেন তারই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ খুনি ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে মুক্তি চায়। চিহ্নিত ঘাতকরা বিদেশে রাজকীয় জীবন কাটাচ্ছে, অথচ ১০৬টি ধার্য তারিখ পেরিয়ে গেলেও বিচার শুরু হয়নি। আমরা এই অপরাজনীতির অবসান চাই।”
অনুষ্ঠানে দৈনিক সংবাদের পাতার সম্পাদক এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম প্রশ্ন তুলে বলেন, “ত্বকী হত্যার বিচারের জন্য আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে? সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও একসময় নারায়ণগঞ্জে এসে এই হত্যার বিচার দাবি করেছিলেন। বর্তমানে ক্ষমতায় যারা আছেন, তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন—বাধাটা কোথায়?”
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা ত্বকী হত্যার পাশাপাশি সাগর-রুনি এবং তনুসহ নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। তবে আজ পর্যন্ত সেই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হয়নি।
প্রতি মাসের ৮ তারিখ ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট এই আলোক প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
আজকের কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক হালিম আজাদ, জিয়াউল ইসলাম কাজল, জায়েদিন হক দীপু, হাফিজুর রহমান, এড. আওলাদ হোসেন, মাহমুদ হোসেন, অংশু শ্রমিক, প্রদীপ সরকার, আহমেদুর রহমান তনু, ফাহিমা আজাদ ও গোবিন্দ সাহা প্রমুখ।