নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর পুলিশ লাইন এলাকায় অবস্থিত বন্ধ ঘোষিত ‘সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড’-এর শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লি. শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা শাখার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ এবং সহ-সভাপতি হাসনাত কবীর।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে কর্তৃপক্ষ নোটিশের মাধ্যমে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করলেও আজ পর্যন্ত শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি। আইন অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে পাওনা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও মালিকপক্ষ কারখানা বিক্রির অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে।
শ্রমিক নেতারা আরও জানান, মালিকপক্ষ ইতিমধ্যে কারখানাটি ‘ফকির অ্যাপারেলস’-এর কাছে বিক্রি করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী কারখানা বিক্রির অর্থের প্রথম দাবিদার শ্রমিকরা হলেও মালিকপক্ষ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও প্রিমিয়াম ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করেছে, কিন্তু শ্রমিকদের পাওনা দেওয়ার সময় ‘টাকা নেই’ বলে দাবি করছে।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জেলা প্রশাসক, শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ এবং শ্রম দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। বিভাগীয় শ্রম দপ্তর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে ৩১ আগস্টের মধ্যে পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দিলেও মালিকপক্ষ তা অমান্য করেছে। শ্রমিকদের এই চরম সংকটের জন্য মালিকের পাশাপাশি ক্রেতা ফকির অ্যাপারেলস এবং প্রিমিয়াম ব্যাংককেও দায় নিতে হবে।”
বক্তারা শ্রমিকদের বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত দুই মাস ধরে কাজ ও বেতন হারিয়ে কয়েকশ শ্রমিক দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। ঘরভাড়া দিতে না পারায় অনেককে বাড়িওয়ালা বের করে দিয়েছেন। বাকির টাকার জন্য দোকানদারদের গালিগালাজ ও অপমান সহ্য করতে হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে থাকা এসব শ্রমিকের পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে শ্রমিকরা তাদের নায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।