বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষকে না’গঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক দুলাল হোসেনের শুভেচ্ছা হকার মার্কেটে হকার নেই, সবাই ভাড়াটিয়া: মার্কেট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের মহান মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষকে ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হীরা সরদারের শুভেচ্ছা মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেনের শুভেচ্ছা বন্দর উপজেলায় বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষকে এড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের শুভেচ্ছা: ‘শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে বন্দরে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক রায়হান কবির সিদ্ধিরগঞ্জের দুই হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন এমপি ও প্রশাসকের ডাকে স্ব-সম্মানে ফুটপাত ছেড়েছি, কিন্তু পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা হয়নি: রনি

হকার মার্কেটে হকার নেই, সবাই ভাড়াটিয়া: মার্কেট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৪ 🪪

নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাষাঢ়ায় হকারদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত ‘হকার মার্কেট’ পরিদর্শন করতে গিয়ে চরম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। পরিদর্শনে দেখা গেছে, ৬৭২ জন হকারকে পুনর্বাসন করা হলেও বর্তমানে সেখানে প্রকৃত কোনো হকার নেই; সবাই দোকান ভাড়া নিয়ে বা কিনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে মার্কেটটি পরিদর্শনে যান নাসিক প্রশাসক। এসময় তিনি মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখেন এবং দোকানিদের সাথে কথা বলেন। তিনি সরাসরি জানতে চান, তারা প্রকৃত হকার কি না? জবাবে দোকানিরা জানান, তারা কেউ হকার নন, বরং মাসিক ভাড়া চুক্তিতে দোকানগুলো চালাচ্ছেন।

দোকানিদের এমন উত্তরে বিস্ময় প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আপনারা এখানে থাকতে পারবেন না। সিটি কর্পোরেশন এই মার্কেটটি নির্মাণ করেছিল ভূমিহীন ও অসহায় হকারদের পুনর্বাসনের জন্য। সেই হকাররাই যদি এখানে না থাকে, তবে এই মার্কেটের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”

পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, “আমি সরেজমিনে তদন্ত করে দেখলাম যে ৬৭২ জন হকারকে এখানে জায়গা দেওয়া হয়েছিল, তাদের একজনও এখন এখানে নেই। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ দোকান বিক্রি করে দিয়েছে, আবার কেউ ভাড়া দিয়ে পুনরায় ফুটপাতে গিয়ে ব্যবসা করছে।”

অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে প্রশাসক আরও বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, ৬টি দোকান একত্রিত করে বড় শোরুম বা দোকান তৈরি করে ব্যবসা চালানো হচ্ছে। এটা তো সিটি কর্পোরেশনের জায়গা, তারা এটি বিক্রি বা ভাড়া দেওয়ার কোনো আইনগত অধিকার রাখে না। যারা বরাদ্দ পাওয়ার পরও আবার ফুটপাতে বসার জন্য আন্দোলন করছে এবং এই দোকানগুলো অবৈধভাবে হস্তান্তর করেছে, আমি সেই অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে দিব। আমরা প্রকৃত হকারদের খুঁজে বের করে পুনরায় সুশৃঙ্খল পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করব।”

দোকান কেনাবেচায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যারা বরাদ্দ পাওয়া দোকান বিক্রি করে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সমস্ত নথিপত্র যাচাই করছি এবং আইনগত দিক বিবেচনা করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। নগরবাসীকে যানজটমুক্ত শহর উপহার দিতে এই অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”

নাসিক প্রশাসকের এই আকস্মিক পরিদর্শন এবং কঠোর হুঁশিয়ারিতে মার্কেটের অবৈধ দখলদারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন নগরবাসী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে প্রকৃত হকাররা তাদের অধিকার ফিরে পাবে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সহজ হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102