২৫শে মার্চ কালরাত ও জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক আবেগঘন পরিবেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফতুল্লার পঞ্চবটিস্থ যমুনা অয়েল কোম্পানির জেটি সংলগ্ন বধ্যভূমিতে এই দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণ সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ নয় মাস এই যমুনা অয়েল কোম্পানির জেটি এলাকাটি পাক হানাদার বাহিনীর টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে এখানে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হতো এবং লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। সেই সব নাম না জানা বীর শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতেই এই বিশেষ আয়োজনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির। শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীন দেশ পেয়েছি, তাদের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। পঞ্চবটির এই বধ্যভূমি আমাদের ত্যাগের ইতিহাসের এক সাক্ষী।”
তিনি আরও বলেন, “২৫ মার্চ কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির জাতিসত্তার ইতিহাসে এক অমোচনীয় অধ্যায়। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার মূল্য কতটা গভীর এবং বেদনাবিধুর। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রকৃত অঙ্গীকার।”
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান মুন্সী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী এবং সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম।
আলোচনা সভা শেষে এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সকলের অংশগ্রহণে মোনাজাতের সময় এক অশ্রুসিক্ত ও শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পঞ্চবটির এই বধ্যভূমি সংরক্ষণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।