প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের গীতা শিক্ষা প্রদান করা হয়। প্রথম দিনের ক্লাসে শিক্ষক হিসেবে গীতা পাঠদান করেন শ্রী গোবিন্দ লাল সরকার ও শ্রীমতি বিপাসা সাহা। এছাড়া প্রতি শুক্রবার এই ক্লাস চলমান থাকবে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত গীতা শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই গীতা শিক্ষালয়টি সম্পূর্ণভাবে লোকনাথ গীতা শিক্ষালয়, দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জের তত্ত্বাবধায়ক ও পরিচালক এবং বাংলাদেশ গীতা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি প্রদীপ সরকারের -এর নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
এ সময় প্রদীপ সরকার বলেন, আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে গীতা পাঠের প্রচলন আগের মতো তেমনভাবে দেখা যায় না। অথচ ভগবদ্ গীতা আমাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান গ্রন্থ। এই উপলব্ধি থেকেই আমি ‘লোকনাথ গীতা শিক্ষালয়’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি। আমার ইচ্ছা, নতুন প্রজন্ম যেন শুদ্ধভাবে গীতা পাঠ শিখতে পারে এবং গীতার আদর্শকে ধারণ করে আদর্শবান মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ভবিষ্যতে এই শিক্ষালয়ের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, প্রদীপ সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। বর্তমান প্রজন্মকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ করতে গীতা শিক্ষার বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, এই গীতা শিক্ষালয় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হবে এবং এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্ম সঠিক পথের দিশা পাবে। সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় গীতার শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এই সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সন্মানিত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শ্রী শংকর কুমার দে, সহ-সভাপতি তিলোত্তমা দাস, তপন ঘোষ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস, তপন গোপ সাধু জেলা পূজা পরিষদের প্রচার সম্পাদক ও লোকনাথ মন্দির কমিটির যুগ্ম সাধারণ মদন সাহা সহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।