সারাদেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার উদ্বেগজনক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন মহানগর যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফের স্ত্রী তাসলিমা মাজহার জলি। রবিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে নাসিক ১৫নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার ঔষধ ছিটানো কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে জলি নিজে উপস্থিত থেকে মশার ঔষধ ছিটানোর কাজ তদারকি করেন। একইসাথে তিনি সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করতে পরামর্শ দেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন।
আজকের এই পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা অভিযানটি ১৫নং ওয়ার্ডের উত্তর র্যালিবাগান, দক্ষিণ র্যালিবাগান, ডিআইটি, নয়ামাটি নতুন রাস্তা, নিমতলা, ডাইলপট্টি, মন্ডলপাড়া লেক ও সুতারপাড়া এলাকায় পরিচালিত হয়।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জোসেফ পত্নী জলি জানান, তিনি ১৫নং ওয়ার্ডের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন, যার সাথে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নেই। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়ার যে ভয়াবহতা, এ বিষয়ে মানুষকে কিছুটা সচেতন করার লক্ষ্যে যদি আমাদের দ্বারা দু’একজন মানুষও সচেতন হয় তাহলেও আমাদের এই কর্মসূচি কিছুটা হলেও সফল হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এজন্য আমরা উত্তর র্যালিবাগান, দক্ষিণ র্যালিবাগান, নিমতলা, ডাইলপট্টি ও লেকপাড় এলাকায় ঔষধ ছিটিয়েছি এবং লিফলেট বিতরণ করেছি।”
সেবামূলক এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা মানুষকে সেবার উদ্দেশ্যেই এটা করছি। এ বিষয়টাকে অন্যকিছু ভাবার কারণ নেই। আমরা চাই, মানুষ ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক।”
জলি বিশেষ করে উত্তর র্যালিবাগান ও দক্ষিণ র্যালিবাগান এলাকাকে ঘনবসতিপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, “এখানকার মানুষ অতটা সচেতন না। যারজন্য আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। ঔষধও ছিটাচ্ছি এবং সচেতন হওয়ার জন্য মুখে বলেও আসছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুনেছি ডেঙ্গু নারায়ণগঞ্জে রেডজোনে পরিণত হয়েছে। তাই যতদিন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হচ্ছে, ততদিন আমাদের এই কর্মসূচি চলবে।”
এই মহতী কার্যক্রমে জলির সাথে উপস্থিত ছিলেন আকরাম খান, কাজল, রহমান, আবির, আসিফ, জামান, আরিফ, মেরাজ, শামীম ও আজমীরসহ আরও অনেকে। এই উদ্যোগ ডেঙ্গু মোকাবিলায় নাগরিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।