আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি জেলার সকল মন্দির নির্বাহী অফিসারদের সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। দুর্গাপূজা যেন আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি নির্বাহী অফিসারকে নিজ নিজ এলাকার সকল মন্দির পরিদর্শন করতে হবে এবং মন্দিরগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে।” তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রতিটি মন্দিরে বিশেষ নজরদারি চালাবে এবং প্রতিমা তৈরির শুরু থেকেই মণ্ডপে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হবে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্দিরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং জেলা পরিষদ থেকেও অনুদান দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, পূজা বিসর্জনের সময় ৫ নম্বর ঘাটে প্রায় ৪০টি মণ্ডপ অংশ নেবে। এ কারণে সিটি করপোরেশন ও বিআইডব্লিউটিএকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘাটের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিসর্জন সড়ক হকারমুক্ত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
সভায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, “চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়ক আলোকিত ও পরিষ্কার করা হয়েছে। সড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে এবং পুরো সড়কটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। বিদেশের উন্নত সড়কের আদলে এই কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোহাম্মদ মুশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়কারী (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হান্নান মিয়া, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল বাসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর হুসাইন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষার জেলা কমান্ড্যান্ট কানিজ ফারজানা শান্তা, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম প্রমুখ।