নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেছেন, দুর্গাপূজা কেবল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার বিকেলে শহরের কালিরবাজারে জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত আসন্ন শারদ দুর্গোৎসব উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদুজ্জামান মাসুদ এসব কথা বলেন।
মাসুদুজ্জামান মাসুদ তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের শত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “এই শহর একটি সম্প্রীতির শহর। আমরা একই সাথে বড় হয়েছি, শীতলক্ষ্যার পানিতে গোসল করেছি এবং প্রতিটি ধর্মীয় উৎসব হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান নির্বিশেষে একযোগে পালন করেছি। এই সু-ইতিহাস আমাদের আছে।” তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটির প্রতি অনীহার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার” এই মূলনীতিতে বিএনপি বিশ্বাসী।
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই মিলে একে অপরের পাশে থেকে এই পূজাকে সাফল্যমণ্ডিত করবো। আমরা বিভিন্ন ধর্মের হতে পারি, কিন্তু জাতিগতভাবে আমরা সবাই এক।” অস্বচ্ছল মন্দির বা পূজা কমিটির পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “যদি আমাদের কোনো অস্বচ্ছল মন্দির, পূজা কমিটি বা পূজার লোকজন কিছু করতে পারছে না, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে তা সমন্বয় করবো এবং চেষ্টা করবো।” নারায়ণগঞ্জের মানুষকে অতিথিপরায়ণ এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অধিকারী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পেলেও ‘শিল্পপতি’ উপাধি তার ভালো লাগে না বলে জানান মাসুদুজ্জামান। তিনি বলেন, “কোনো সরকার ব্যবসায়ীদেরকে সম্মান দেননি। শিল্পপতি কথাটা তে এখন কষ্ট হয়।” তবে জীবনে তার একটি বড় অর্জন হলো ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে প্রাপ্ত সম্মান।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রান্তিক জনশক্তি বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস। তিনি বলেন, “আমাদের এই দেশ সম্প্রীতির দেশ। আমরা সকল ধর্মের মানুষ একসাথে বসবাস করি। ফ্যাসিবাদের সময় কোনো ধর্মের মানুষ ভালো ছিল না।” তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অভয় কুমার রায় এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব কার্তিক ঘোষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি. সীমান্ত দাস, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম কমিটির সাধারণ সম্পাদক তারপদ আচার্য, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, সারদাঞ্জলী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র পাল, জেলার সভাপতি আশিষ দাস, গণসংহতি আন্দোলন মহানগরের সাধারণ সম্পাদক পপি রানী সরকার, সাংবাদিক সুভাষ সাহা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক নয়ন সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক ঋষিকেশ মন্ডল।