ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইককে হঠাৎ উচ্ছেদ বা নিষিদ্ধ না করে বাস্তবতার আলোকে একটি সমন্বিত ও টেকসই নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ। চালক-শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা রক্ষা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষে ১০ দফা দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের জেলা সংগঠক এস এম কাদির, হাসনাত কবির, দাউদ আলী মামুনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ এসব যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। রোদ-বৃষ্টি ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে এসব বাহন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। দেশীয় প্রযুক্তি ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের গড়া এই খাতের সঙ্গে চালক, মালিক, গ্যারেজ মালিক, মেকানিক ও যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের রুটি-রুটি জড়িত। তাই কোনো ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা না করে বা হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এই খাতকে ধ্বংস করা হলে তা লাখ লাখ পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ইলেকট্রিক মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩’ অনুমোদিত হলেও থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় যানের ব্যবস্থাপনা নীতিমালা এখনও ঝুলে রয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সড়কে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। কোনো বিশেষ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বার্থে স্থানীয় উৎপাদক ও চালকদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে, বিআরটিএ ও স্থানীয় সরকারের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে চালকদের লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ এবং যানবাহনের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
সংগ্রাম পরিষদের ১০ দফা প্রধান দাবিগুলো হলো: ১. স্থানীয় সরকার ও বিআরটিএর সমন্বয়ে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করে কেন্দ্রীয়ভাবে নিবন্ধন, লাইসেন্স ও রুট পারমিট প্রদান। ২. কোনো একক কোম্পানি বা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পরিবর্তে দেশীয় স্থানীয় উৎপাদকদের নিরাপদ ডিজাইনে ই-রিকশা উৎপাদনের সুযোগ দেওয়া। ৩. বর্তমান যানবাহনগুলোর আধুনিকায়ন বা প্রতিস্থাপনের জন্য অন্তত দুই বছর সময় এবং সরকারি ভর্তুকি প্রদান; উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা। ৪. গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌরবিদ্যুতে ভর্তুকি দেওয়া। ৫. লাইসেন্স ও নিবন্ধনে সৌরবিদ্যুতের বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহার এবং এর ব্যয়ভার শ্রমিকের ওপর না চাপানো। ৬. মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণ। ৭. চাঁদাবাজি, বিট-বাণিজ্য, যান ও ব্যাটারি চুরি-ছিনতাই এবং নারী চালকদের হয়রানি বন্ধ করা। ৮. গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ৯. সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা। ১০. সকল শ্রমিকের জন্য রেশন, পেনশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কার্ডের সুব্যবস্থা করা।
উচ্ছেদ নয়—সমন্বিত নীতিমালা, নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধনের মাধ্যমে এই খাতকে একটি সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ।