হাম ও রুবেলায় আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় টিকার সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদী সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। আজ সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেল গেট এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা দেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মহামারী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত ৩২ হাজারেরও বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ইতিমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে শিশুদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সদস্য রোকন আহাম্মেদ, সরকারি কদম রসুল কলেজ শাখার সংগঠক আহাম্মেদ রবিন স্বপ্ন, নারায়ণগঞ্জ কলেজের সংগঠক হাসিমিন নিসা শিফা ও প্রভাতী আক্তার।
সভাপতির বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম বলেন, “পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু। আজ বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মা-বাবারা সেই ভারী লাশ বহন করছেন শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার কারণে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থায় যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, তার মাসুল দিচ্ছে এদেশের শিশুরা। দুর্নীতির কারণে টিকাদানের হার নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, হাম এমন একটি রোগ যা নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব। সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে শিশুদের হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বর্তমান সরকারের অব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী টিকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ৯৫ শতাংশ টিকাদানের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আজ কেবল বিদেশি দান-অনুদানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, সরকারের নিজস্ব কোনো প্রস্তুতি নেই।
সমাবেশ থেকে ছাত্র নেতারা অবিলম্বে তিনটি দাবি জানান:
১. হাম ও রুবেলায় আক্রান্ত সকল শিশুর জন্য বিশেষায়িত ইউনিটে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
২. সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ করে দেশব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে হবে।
৩. স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বন্ধ করে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশুদের জীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।