নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মো. সুমন মাহমুদ (৪২) নামে এক ব্যক্তির বসতঘরে হামলা, বর্বরোচিত মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাকে পিটিয়ে জখম করে এবং ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে আদালতে একটি সি.আর মামলা (মামলা নং-৪২৬/২০২৬) দায়ের করেছেন।
মামলার বাদী মো. সুমন মাহমুদ ফতুল্লা থানার পশ্চিম মাসদাইর (পাকাপুল সংলগ্ন) এলাকার মৃত সোরহাব উদ্দিন মেম্বারের ছেলে।
মামলার প্রধান আসামিরা হলো— একই এলাকার সানোয়ার হোসেনের ছেলে হাবিব (১৯) এবং শাহিনের ছেলে সাজ্জাদ (৩৫)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ প্রকৃতির লোক। সম্প্রতি বাদী সুমন মাহমুদের সম্পত্তির ওপর তাদের কু-দৃষ্টি পড়ে। এর জের ধরে তারা দীর্ঘদিন ধরে বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। একপর্যায়ে বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললে আসামিরা কিছুদিন শান্ত থাকে।
তবে ঘটনার দিন (মামলার বর্ণনানুযায়ী) প্রধান দুই আসামি হাবিব ও সাজ্জাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা পুনরায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক নীলাফুলা জখম করে।
হামলা চলাকালে আসামি হাবিব ও সাজ্জাদ বাদীর ঘরে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা লুট করে নেয়। যাওয়ার সময় আসামিরা বাদীকে এই বলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় যে, এ বিষয়ে থানা-পুলিশ বা আদালতের আশ্রয় নিলে তাকে সপরিবারে হত্যা করা হবে।
বর্তমানে আহত সুমন মাহমুদ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আসামিরা এলাকায় ইতিপূর্বেও বহু অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এই সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।