সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সংঘাতহীন পরিবেশে সম্পন্ন করে সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির। পাশাপাশি নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সড়ক-মহাসড়কে যানজট নিরসন এবং বহুমুখী জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ফলে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ডিসি মো. রায়হান কবির প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভার আয়োজন করেন। প্রতিটি প্রার্থীকে সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করায় তার এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়।
এরই স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি ‘নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি’র নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ায় ডিসিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সমাপ্ত করতে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রতিটি উপজেলায় প্রার্থী ও জনগণকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছি, যেখান থেকে অভূতপূর্ব সাড়া ও সহযোগিতা পেয়েছি। নারায়ণগঞ্জবাসী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতাতেই এই সফলতা এসেছে।”
নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “আমি আশাবাদী, জনতার ভোটে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সবসময় জনগণের পাশে থেকে কল্যাণমূলক কাজ করবেন এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। জনগণেরও তাদের কাছে এমনটাই প্রত্যাশা।”
আসন্ন লাঙ্গলবন্দ মহাঅষ্টমী পুণ্যস্নান নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এরই মধ্যে বিভিন্ন ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন ডিসি মো. রায়হান কবির। দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো পুণ্যার্থীর নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে— স্নানঘাটগুলোতে পর্যাপ্ত আলো ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পর্যাপ্ত সেবাক্যাম্প স্থাপন, নিরাপদ পয়োনিষ্কাশন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, কচুরিপানা অপসারণ এবং চুরি-ছিনতাই রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর টহল নিশ্চিত করা।
পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবেও জেলা প্রশাসকের ভূমিকা দৃশ্যমান। সড়ক ও মহাসড়কে যানজট নিরসন এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায় নির্ধারিত স্পট ও ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে সুলভ মূল্যে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক কাজেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডিসি রায়হান কবির। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এতিম ও অসহায় শিশুদের সাথে ইফতার এবং তাদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের মাঝে হুইলচেয়ার প্রদানসহ নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
সরকারি দপ্তরগুলোতে কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়া নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে জেলার সব দপ্তর প্রধানকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। সেবা প্রদানে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জবাসীর মন জয় করেছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। এমন একজন জনবান্ধব প্রশাসক পেয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন।