ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, বীর বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৩তম আত্মাহুতি দিবসে নারায়ণগঞ্জ সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ, বীর বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৩তম আত্মাহুতি দিবসে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে আলোচনা সভা জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মিমি পূজা দাসের সভাপতিত্বে এবং সুলতানা আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করুসানা আফরোজ আশা, নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুন্নাহার শম্পা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি মুনীম সরকার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব নাসিয়া সাদি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সাহসী সৈনিক, বীর বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার জন্মগ্রহণ করেন ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের আলঘাট গ্রামে। তিনি শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। নারী হয়ে তিনি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং হাতিয়ার তুলে নিয়েছিলেন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তির লড়াইয়ে। চট্টগ্রামের বীর বিপ্লবী মাষ্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে প্রীতিলতা যোগ দেন সশস্ত্র বিপ্লবী দলে। ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি সাহসিকতার সাথে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। ঐ ক্লাবের গেটে লেখা ছিল ‘কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’। এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনের ঔদ্ধত্যের প্রতীক। ক্লাব আক্রমণে ব্রিটিশদের পরাজিত করে ফেরার পথে আত্মসমর্পণ না করে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন তিনি। মাত্র ২১ বছরের এই তরুণীর আত্মাহুতি গোটা বাংলার তরুণ-তরুণীদের জন্য হয়ে উঠেছিল মুক্তির সংগ্রামের অনন্য প্রেরণা। প্রীতিলতার জীবন আমাদের শেখায় অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয় সাহস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নারী সমাজ শুধু ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে নয়, মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে পারে। আজকের দিনে যখন সমাজে অন্যায়, শোষণ, নারী নির্যাতন, সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্য বিদ্যমান, তখন প্রীতিলতার শিক্ষা নতুন প্রজন্মকে সত্যিকারের মুক্তি ও সাম্যের সমাজ গঠনের জন্য লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতি দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীনতা, সাম্য, অধিকার ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের প্রনোদনা এগিয়ে নিতে হলে সংগঠিত হতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে।
আলোচনার শুরুতে প্রীতিলতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। এবং সংগীত পরিবেশন করেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন।