নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল বৌ বাজার এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের চার বছর বয়সী শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও আর্থিক টানাপোড়েনের জেরে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গৃহকর্তা আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন, হাবিব উল্লাহ শিপলু (৩৫), তার স্ত্রী মোহিনী আক্তার মিম (২৫) ও তাদের একমাত্র শিশু সন্তান আফরান (৪)।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, সোমবার বিকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বাবুরাইল এলাকার ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। চতুর্থ তলার ওই ফ্ল্যাটে শিপলু তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন। ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পুলিশ তিনজনের মরদেহ দেখতে পায়।
পুলিশ জানায়, দুই কক্ষের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের মেঝেতে মিম ও আফরানের লাশ বালিশ চাপা দেওয়া অবস্থায় ছিল। অপর কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শিপলুর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।
স্থানীয় ও নিহত শিপলুর স্বজনদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, নিহত শিপলু ‘বৌ বাজার সঞ্চয় তহবিল’ নামে একটি সমিতির ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) ছিলেন। করোনা মহামারীর সময় সমিতিটি বন্ধ হয়ে যায় এবং এর মালিক রমজান দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। সমিতির সদস্যদের টাকা ফেরত দিতে না পারায় শিপলুর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলাও চলছিল। ফলে সমিতির গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য শিপলুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন।
এছাড়াও, শিপলু দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন এবং নিজেও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এসব আর্থিক ও মানসিক চাপ থেকেই শিপলু প্রথমে তার স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করে এবং পরে নিজে আত্মহত্যা করেন।
ওসি নাসির উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “শিপলু বাবুরাইলের স্থানীয় ছেলে এবং তাকে সবাই চিনতো। সমিতির সমস্যা ছাড়া কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না বলে তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছে। ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এবং অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা না থাকায় প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা ও হত্যার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে।”
পুলিশ লাশ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
`