বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
উৎসব-বন্ধন সিন্ডিকেটে বন্দি নারায়ণগঞ্জ, ৫ টাকা বাড়তি ভাড়া চরম জুলুম: ইসলামী ছাত্র আন্দোলন নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতে কোনো হকার বসবে না, আমি শহরের যুবরাজ হতে চাই না’: আশা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অনুদানের চেক বিতরণ পুনরায় বাস ভাড়া বৃদ্ধি জনগণের ওপর ‘বাড়তি চাপ’ সৃষ্টি করবে: মাহফুজ খান নারায়ণগঞ্জ সদরে ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের মনিটরিং ও মতবিনিময় সভা বাস ভাড়া বৃদ্ধি ও হাফ পাসে শর্তারোপের প্রতিবাদে সরব ছাত্র ফেডারেশন: জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ-র আশ্বাস হাফপাশ কার্যকর ও অতিরিক্ত বাসভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট দৈনিক আজকের নীরবাংলা’র ১৭তম বর্ষ পদার্পণে পেশাগত দক্ষতায় সম্মাননা পেলেন জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ মর্গ্যান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি হলেন এমপি কন্যা এড. সামছুন নূর বাঁধন নারায়ণগঞ্জে বাস ভাড়া বৃদ্ধি ও হাফ পাস বন্ধের প্রতিবাদে ছাত্র ফেডারেশনের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪০৩ 🪪
নারায়ণগঞ্জ জেলার আন্দোলন উপ-পরিষদের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার ১৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়াস্থ সংগঠন কার্যালয়ে “নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় চাই অভিন্ন পারিবারিক আইন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি রীনা আহমেদ।
বক্তারা বলেন- নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ বা সিডও(CEDAW) নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সনদটি কার্যকর হতে শুরু করে। সিডও একমাত্র আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সনদ, যা শুধু নারী সংক্রান্ত।এই সনদে মোট ৩০টি অনুচ্ছেদ বা ধারা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১৬টি অনুচ্ছেদে নারীর প্রতি বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পরের ১৪টি অনুচ্ছেদে সেই বৈষম্য দূরীকরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সিডও সনদে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করে। নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদে সমানাধিকারের বিষয়ে সিডও সনদের ২ ও ১৬ (১) (গ) দুটি ধারায় সংরক্ষণ বহাল রেখেছে বাংলাদেশ। এই ধারার সংরক্ষণ এখনো রহিতকরণ হয়নি। ফলে প্রকৃত সমতা নিশ্চিত হচ্ছে না। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদনের জন্য চলমান সামাজিক আন্দোলনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র সকল পর্যায়ে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরি। মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। সারাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার যে চিত্র প্রতিনিয়ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা প্রতিরোধ করতে হলে সিডও সনদের বাস্তবায়ন জরুরি।  রাষ্ট্রকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। সিডও সনদ বাস্তবায়ন করা হলে নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
অভিন্ন পারিবারিক আইন বলতে সকল ধর্মের মানুষের জন্য প্রযোজ্য একটি সাধারণ পারিবারিক আইন বোঝায়। এই আইনে বিয়ে, তালাক, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে সকল ধর্মের মানুষের জন্য একই নিয়মকানুন থাকবে। বর্তমানে বিভিন্ন ধর্মের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পারিবারিক আইন প্রচলিত আছে, যা অনেক ক্ষেত্রে নারীদের জন্য বৈষম্যমূলক। অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই বৈষম্য দূর করা এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়। বক্তারা সকলে একমত হয়েছেন যে- এই বিষয়ে শহর থেকে গ্রামে-গঞ্জে প্রচার চালাতে হবে, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সকল শ্রেণীর নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই বৈষম্য দূর করতে হবে। রাষ্ট্রকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন- সাধারণ সম্পাদক রহিমা খাতুন, মতবিনিময় করেন- আন্দোলন সম্পাদক সাহানারা বেগম, খেলাঘরের জেলা সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, পরিবেশ রক্ষা  ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইন, নারী শিল্প উদ্যোক্তা মুনমুন আসকারী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক মহসিন, আইনজীবী আয়েশা আখতার, সিনিয়র শিক্ষক নিগার সুলতানা পলি প্রমূখ।
পরিচালনা করেন শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক শাশ্বতী পাল। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশাজীবী: আইনজীবী(নারী ও পুরুষ), নারী শিল্প উদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্রীসহ জেলা ও পাড়া কমিটির অর্ধশতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved Daily Narayanganj
Design by: SHAMIR IT
themesba-lates1749691102